House Building Plan Approval । পঞ্চায়েত এলাকায় বাড়ি তৈরির অনুমতি অনলাইনে কীভাবে পাবেন? সম্পূর্ণ গাইড (২০২৬)

House Building Plan Approval in Panchayat Area 2026 – পঞ্চায়েত এলাকায় বাড়ি তৈরির অনুমতি অনলাইনে
পঞ্চায়েত এলাকায় বাড়ি তৈরির অনুমতি অনলাইনে পাওয়ার সম্পূর্ণ গাইড (২০২৬)

পশ্চিমবঙ্গের গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় নতুন বাড়ি, দোকান বা অন্য কোনো নির্মাণকাজ শুরু করার আগে Building Plan Approval বা নির্মাণের অনুমতি নেওয়া দরকার। আগে থেকে অনুমতি না নিয়ে বাড়ি তৈরি করলে পরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় পড়তে হতে পারে।

যেমন, বাড়ির মিউটেশন, প্রপার্টি ট্যাক্স, বাড়ি বিক্রি বা অন্যান্য সরকারি কাজের সময় নির্মাণ সংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকি নিয়ম ভেঙে নির্মাণ করলে জরিমানা সহ নির্মাণটি ভেঙে ফেলারও নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।

তাই বাড়ি বা অন্য কোনো নির্মাণকাজ শুরু করার আগে পঞ্চায়েত থেকে ঘর তৈরির অনুমতি কীভাবে নেবেন, কোন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে এবং অনলাইনে কীভাবে আবেদন করতে হবে। এসব বিষয় আগে জেনে নেওয়া ভালো।

এই প্রতিবেদনে গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় House Building Plan Approval করার পুরো প্রক্রিয়াটি সহজভাবে ধাপে ধাপে তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি কোন ধরনের নির্মাণের জন্য অনুমতি প্রয়োজন, কী কী তথ্য ও Documents লাগতে পারে এবং Online Application করার পর কী করতে হবে, সেগুলিও জানতে পারবেন।

কোন কোন ক্ষেত্রে পঞ্চায়েতের Building Plan Approval লাগে না?

সব ধরনের নির্মাণকাজের জন্য যে পঞ্চায়েতের অনুমতি লাগবেই, এমন নয়। কিছু ছোটখাটো কাজ নির্দিষ্ট শর্তে অনুমতি ছাড়াই করা যেতে পারে। যেমন:

ছোট ও হালকা কাঠামো

খড়ের চালা, টিন বা টালির ছাউনি কিংবা ইটের পাকা দেওয়াল নয়। এমন হালকা কাঠামো হলে এবং তার আয়তন ১৮ বর্গমিটার (প্রায় ১৯৩.৭৫ বর্গফুট) এর কম হলে সাধারণত Building Plan Approval এর প্রয়োজন হয় না।

সাধারণ মেরামতের কাজ

বাড়ির মূল কাঠামোতে কোনো পরিবর্তন না করে শুধু রং করা, প্লাস্টার করা বা এ ধরনের সাধারণ মেরামত করলে সাধারণত নতুন করে নির্মাণ অনুমতি নেওয়ার দরকার হয় না। তবে বাড়ির উচ্চতা বা মোট নির্মিত এলাকা বাড়ানো হলে বিষয়টি আলাদা।

হালকা সীমানা প্রাচীর

বাঁশ বা অন্য কোনো হালকা উপকরণ দিয়ে সীমানা তৈরি করা হলে, নির্দিষ্ট শর্তে অনুমতির প্রয়োজন নাও হতে পারে। তবে সেই জায়গাটি যেন পাকা নির্মাণ বা মালপত্র মজুত করার কাজে ব্যবহার না করা হয়।

তবে একটা বিষয় মনে রাখবেন: অনুমতি না লাগার শর্ত ভেঙে যদি সেখানে পাকা নির্মাণ করা হয়, মালপত্র মজুত করা হয় বা ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করা হয়, তাহলে পঞ্চায়েতের নির্মাণ অনুমতি প্রয়োজন হতে পারে। নিয়ম না মেনে নির্মাণ করলে আইন অনুযায়ী জরিমানা বা নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

জমিতে বাড়ি করার আগে যে গুরুত্বপূর্ণ নিয়মগুলো জানা দরকার।

জমিতে বাড়ি করার আগে শুধু Panchayet Building Plan Approval নিলেই হবে না। জমিটি বাড়ি করার উপযুক্ত কি না এবং কতটা জায়গায় নির্মাণ করা যাবে, সেগুলিও জানা দরকার। গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম রয়েছে। যেমন:

কোন জমিতে বাড়ি করার অনুমতি পাওয়া যাবে না?

পুকুর, খাল, জলাভূমি, পরিত্যক্ত ইটভাটা, বালি খাদান বা খনি এলাকার মতো জমিতে সাধারণভাবে বাড়ি করার অনুমতি দেওয়া হয় না। এ ধরনের জমি বেআইনিভাবে মাটি বা অন্য কিছু দিয়ে ভরাট করে বাড়ি করার চেষ্টা করলে পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিতে পারে এবং প্রয়োজন হলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা থানায় জানানো হতে পারে।

জমির কতটা অংশে বাড়ি করা যাবে?

বাড়ি করার ক্ষেত্রে মোট জমির সর্বোচ্চ ৬৬.৬৬% (২/৩ অংশ) পর্যন্ত জায়গায় নির্মাণ করা যাবে। পরে বাড়ি বাড়ালেও পুরনো ও নতুন অংশ মিলিয়ে এই সীমার মধ্যেই থাকতে হবে।

পাশের বাড়ি থেকে কতটা জায়গা ছাড়তে হবে?

বাড়ি তৈরির সময় সাধারণভাবে চারপাশে কমপক্ষে ৩ ফুট (প্রায় ৯০ সেমি) জায়গা ছাড়ার নিয়ম রয়েছে।
তবে পাশের পুরনো বাড়ি যদি একেবারে জমির সীমানা ঘেঁষে থাকে, তাহলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ১.৮ মিটার বা ৬ ফুট ছাড়ের নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।

বাড়ির সর্বাধিক উচ্চতা কত হতে পারে?

বাড়ির উচ্চতা নির্ধারণের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। সাধারণভাবে সামনের রাস্তার চওড়া এবং সামনের দিকে রাখা ছাড়ের মাপের ভিত্তিতে সর্বাধিক উচ্চতা নির্ধারণ করা হয়।
হিসাবটি হলো: (সামনের রাস্তার চওড়া + সামনের ছাড়) × ১.৫
তবে সর্বোচ্চ উচ্চতার ক্ষেত্রে ১৫ মিটার বা প্রায় ৪৯ ফুট সীমাও প্রযোজ্য হতে পারে।

দুটি বাড়ির মধ্যে কতটা জায়গা রাখতে হবে?

দুটি বাড়ির মাঝখানে মোট ১.৮ মিটার বা ৬ ফুট ফাঁকা জায়গা/পথ রাখার নিয়ম রয়েছে। এই ৬ ফুট দুই পাশের ছাড় মিলিয়ে ধরা হতে পারে। যদি দুই বাড়ির মাঝের জায়গা কম হয়, তাহলে প্রতিটি পক্ষকে অন্তত ৩ ফুট করে ছাড় রাখতে হবে।
মনে রাখবেন: জমির অবস্থান, রাস্তার চওড়া, নির্মাণের ধরন এবং স্থানীয় নিয়ম অনুযায়ী কিছু শর্ত আলাদা হতে পারে। তাই বাড়ি তৈরির আগে সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েত বা অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের কাছে বর্তমান নিয়ম যাচাই করে Building Plan Approval নেওয়াই নিরাপদ।

জল নিকাশি, শৌচাগার ও সেপটিক ট্যাংক তৈরির নিয়ম

বাড়ি বানানোর সময় জল নিকাশির ব্যবস্থা, শৌচাগার এবং সেপটিক ট্যাংক রাখা বাধ্যতামূলক। কেউ চাইলে নিজের বাড়ির নালা পাশের কারও নালার সঙ্গে যুক্ত করতে পারেন। তবে তার আগে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের অনুমতি নিতে হবে। নালা যুক্ত করার পর সেটির পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দু’পক্ষকেই নিতে হবে।

কোনো বাড়িতে যাওয়ার জন্য ৬ ফুট রাস্তা না থাকলে, নিয়ম মেনে রাস্তা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় জমি নেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তবে এর মানে এই নয় যে পঞ্চায়েত ইচ্ছেমতো কারও জমি নিয়ে নিতে পারবে। জমির মালিকের সম্মতি ও প্রযোজ্য আইনি প্রক্রিয়া মেনেই রাস্তার জন্য জমি নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যের জমির উপর দিয়ে রাস্তা করার জন্য জমির মালিককে জোর করা যাবে না।

বাণিজ্যিক বা প্রাতিষ্ঠানিক বাড়ি তৈরির বাড়তি নিয়ম

দোকান, গুদাম, কারখানা বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য বাড়ি তৈরি করলে কিছু বাড়তি নিয়ম মানতে হয়:
  • ৫ মিটার বা ১৯ ফুটের কম চওড়া রাস্তার পাশে এবং বসতি এলাকায় কারখানা ও গুদাম তৈরি করা যাবে না।
  • বাড়ির সামনে কমপক্ষে ১.২ মিটার বা ৪ ফুট জায়গা ফাঁকা রাখতে হবে।
  • মোট জমির ৬০% (৩/৫ অংশের) বেশি জায়গায় বাড়ি তৈরি করা যাবে না।

কোন আয়তনের বাড়ি কোন কর্তৃপক্ষ অনুমোদন দেয়?

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের Panchayats & Rural Development (P&RD) Department এর SOP 3/P&RD অনুযায়ী, বাড়ির প্লিন্থ এরিয়া ও উচ্চতা কতটা তার ওপর নির্ভর করে Building Plan Approval এর আবেদন ও অনুমোদন তিনটি স্তরে হয়।

প্লিন্থ এরিয়া উচ্চতা আবেদন জমা দিতে হবে অনুমোদন দেবেন
সর্বাধিক ১৫০ বর্গমিটার (১৬১৪ বর্গফুট) পর্যন্ত ৬.৫ মিটার পর্যন্ত GP অফিস Pradhan of Gram Panchayat
১৫০ থেকে ৩০০ বর্গমিটার (১৬১৪–৩২২৯ বর্গফুট) ৬.৫ মিটার পর্যন্ত PS অফিস Executive Officer, Panchayat Samiti
৩০০ বর্গমিটারের বেশি (৩২২৯ বর্গফুটের বেশি) উচ্চতা ৬.৫ মিটারের বেশি এবং ১৫ মিটার পর্যন্ত ZP অফিস Executive Officer, Zilla Parishad
প্লিন্থ এরিয়া যতই হোক উচ্চতা ১৫ মিটারের বেশি ZP → P&RD Department P&RD Department (ভেটিং এর পর)

এই নিয়ম শুধু সেইসব গ্রাম পঞ্চায়েত (GP) এলাকায় প্রযোজ্য, যেগুলো Industrial Estate বা Industrial Park এর মধ্যে পড়ে না এবং যেখানে রাজ্য সরকার এখনও কোনো Development Plan তৈরির ঘোষণা দেয়নি।

বাড়ির প্ল্যান কে তৈরি করবেন?

বাড়ির উচ্চতা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তির কাছ থেকেই বিল্ডিং প্ল্যান তৈরি ও যাচাই করে স্বাক্ষর করিয়ে নিতে হবে।

বাড়ির ধরন কে প্ল্যান তৈরি করতে পারবেন
আবাসিক বাড়ি, উচ্চতা ৪ মিটার পর্যন্ত সিভিল ড্রাফটসম্যান
আবাসিক বাড়ি, উচ্চতা ১১ মিটার পর্যন্ত সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমাধারী লাইসেন্সপ্রাপ্ত বিল্ডিং সার্ভেয়ার
আবাসিক বাড়ি, উচ্চতা ১৫ মিটার পর্যন্ত সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রিধারী ব্যক্তি
সব ধরনের বাড়ি (আবাসিক/বাণিজ্যিক/প্রাতিষ্ঠানিক) আর্কিটেক্ট

এছাড়া টাওয়ার বা মাটির নিচে ঘর (বেসমেন্ট) তৈরি করতে চাইলে আগে থেকেই আলাদা অনুমতি নিতে হবে।

পঞ্চায়েত থেকে বাড়ির নির্মাণ কাজ শেষ করার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হয়। সেই সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারলে সময়সীমা বাড়ানোর জন্য আলাদা করে অনুমতি নিতে হবে।

Building Plan Approval এর অনলাইনে আবেদন করার আগে যা প্রস্তুত রাখবেন।

অফিসিয়াল SOP অনুযায়ী, বাড়ির নির্মাণ অনুমোদনের অনলাইনে আবেদন করার সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ Documents সঙ্গে রাখতে হবে। আবেদন করার আগে এগুলো প্রস্তুত করে রাখলে ফর্ম পূরণ করতে সুবিধা হবে।

Building Plan ও Site Plan (PDF ফরম্যাটে): উপরের টেবিলে উল্লেখ করা যোগ্য ব্যক্তির কাছ থেকে বাড়ির নকশা ও জমির নকশা তৈরি করিয়ে নিতে হবে এবং তাঁর স্বাক্ষর করিয়ে নিতে হবে।

Records of Right (RoR): জমিটি আপনার নামে বা আপনার মালিকানায় রয়েছে, তার প্রমাণ হিসেবে এসব নথি দিতে হবে। যেমন, খতিয়ানের কপি।

Character of Land (জমির চরিত্র): জমিটি কোন শ্রেণীর, তার প্রমাণ হিসেবে এই নথি দিতে হবে। আর জমির শ্রেণী পরিবর্তন করা হয়ে থাকলে জমির রূপান্তরের শংসাপত্র (Conversion Certificate) দিতে হবে।

Soil Stability Report (মাটির স্থায়িত্বের রিপোর্ট): LBS, Structural Engineer বা Geo-technical Engineer এর দ্বারা রিপোর্টটি বানাতে হবে এবং সেই ইঞ্জিনিয়ারের স্বাক্ষর করতে হবে। ওই ইঞ্জিনিয়ারের নাম পশ্চিমবঙ্গের কোনো Municipality বা Corporation এর তালিকায় থাকতে হবে।

পরিচয়পত্র: ভোটার কার্ড (EPIC) বা আধার কার্ড প্রস্তুত রাখুন।

Holding/Assessment Number ও Tax এর কাগজ: Holding বা Assessment Number এবং পঞ্চায়েতের আপ-টু-ডেট Tax Payment এর প্রমাণপত্র।

Building এর মাপ: Civil Engineer বা Architect এর কাছ থেকে বাড়ির Width, Height ও Plinth Area-এর সঠিক মাপ জেনে নিন। মাপ গুলো মিটারে দিতে হবে।

জমির চারদিকের তথ্য: জমির পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর ও দক্ষিণ দিকে কী রয়েছে, সেই তথ্য গুলো লাগবে।

আবেদন করার আগে অবশ্যই দেখে নিন আপনার Voter Card নম্বর SIR-2026 তালিকায় আছে কিনা। না থাকলে আবেদনটি বাতিল হয়ে যেতে পারে। যাচাই করতে Voters.eci.gov.in ওয়েবসাইটে যান।

West Bengal House Building Plan Approval এর অনলাইনে আবেদনের ধাপ। 

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের P&RD Department এর নিয়ম অনুযায়ী, House Building Plan Approval এর অনলাইন আবেদন করতে prdeodb.wb.gov.in পোর্টালে যেতে হবে। এই পোর্টালেই আবেদন জমা দিতে হয়।

ধাপ ১: পোর্টালে প্রবেশ

Panchayet Helpdesk ওয়েবসাইটে যান। বামদিকের উপরের মেনুতে ক্লিক করে Building Approval অপশনে ক্লিক করুন।

Panchayat Helpdesk Building Approval option selection
Panchayat Helpdesk-এ Building Approval অপশন নির্বাচন করার ধাপ

Terms and Conditions-এ সম্মতি দিয়ে আবেদনের ফর্ম খুলুন। ফর্মটি পূরণ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করে Submit করুন। আবেদন জমা হলে একটি ১৫ সংখ্যার Application ID এবং QR Code পাবেন। পরে আবেদনের Status Check করতে এই Application ID প্রয়োজন হবে।

Panchayat Building Plan Approval application form
Panchayat Building Plan Approval এর জন্য অনলাইন আবেদন ফর্ম

ধাপ ২: এলাকা নির্বাচন

প্রথমে District, তারপর Block এবং শেষে Gram Panchayat নির্বাচন করুন।

ধাপ ৩: আবেদনকারীর তথ্য

আবেদনকারীর First Name, Middle Name (থাকলে) এবং Last Name লিখুন। নামটি ভোটার কার্ডে যেমন রয়েছে, ঠিক তেমনভাবেই লিখুন।

ধাপ ৪: বাসস্থানের ঠিকানা

Village, Para, Samsad, Post Office, Police Station এবং Pin Code লিখুন। এরপর Identity Proof হিসেবে EPIC সিলেক্ট করে ভোটার কার্ড নম্বরটি দিন।

ধাপ ৫: যোগাযোগের তথ্য

Mobile Number ও E-mail ID অবশ্যই দিতে হবে। Alternative Mobile Number, Landline ও Fax Number না দিলেও হবে।

ধাপ ৬: নির্মাণের উদ্দেশ্য ও শ্রেণী

এখানে বাড়ি তৈরির উদ্দেশ্য, জমির শ্রেণী, কত তলা হবে এবং কী ধরনের বাড়ি হবে এই সব তথ্য দিতে হবে।

  • Purpose of Construction: নতুন বাড়ি, নতুন তলা তৈরি, বাড়ি বাড়ানো, সীমানা বা গার্ড ওয়াল তৈরি বা পুরনো বাড়ি নতুন করে তৈরি। যেটা ঠিক, সেটি সিলেক্ট করুন।
  • Classification of Land: নতুন বাড়ি তৈরি করতে হলে জমির শ্রেণী বাস্তু হতে হবে। জমি বাস্তু না হলে নতুন বাড়ি তৈরির আবেদন করা যাবে না।
  • Description Building: বাড়ি একতলা, দোতলা নাকি বহুতলা সেটি সিলেক্ট করুন।
  • Select Property: বাড়িটি Individual Residential, Joint Family Residential, Business ইত্যাদির মধ্যে যেটি ঠিক, সেটি সিলেক্ট করুন।

ধাপ ৭: সীমানার তথ্য

জমির পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর ও দক্ষিণ দিকে কি কি আছে সেগুলো লিখুন। এটি দেওয়া বাধ্যতামূলক না, তবে আমার মতে তথ্যগুলো ঠিকভাবে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

ধাপ ৮: নির্মাণ সংক্রান্ত তথ্য

Mouja/JL No, Dag No, Khatian No, Holding No/Assmnt No এবং Plot No লিখুন। বাড়ির চওড়া, উচ্চতা ও Plinth Area এর সঠিক মাপ Civil Engineer এর কাছ থেকে জেনে নিন। এই মাপ না দিলে আবেদন জমা দেওয়া যাবে না।

ধাপ ৯: ডকুমেন্ট আপলোড

প্রতিটি ডকুমেন্ট PDF ফরম্যাটে এবং ১ MB-এর মধ্যে রাখতে হবে।

  • Plan Details: ইঞ্জিনিয়ারের তৈরি বাড়ির নকশা আপলোড করুন।
  • Tax Details: পঞ্চায়েতের আপ-টু-ডেট ট্যাক্স দেওয়ার রশিদ আপলোড করুন।
  • ID Proof: আবেদন করার সময় যে পরিচয়পত্র দিয়েছেন, যেমন ভোটার কার্ড, তার স্ক্যান কপি আপলোড করুন।

ধাপ ১০: আবেদন জমা দিন

সব তথ্য একবার ভালো করে দেখে Submit বাটনে ক্লিক করুন। আবেদন জমা হলে একটি Acknowledgement Slip পাবেন। এতে আপনার আবেদনের সমস্ত তথ্য থাকবে। জমির বা বাড়ির আয়তন অনুযায়ী আবেদনটি পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি (BDO অফিস) বা জেলা পরিষদে পাঠানো হবে।

House Building Plan Approval এর আবেদন করার পর কী করতে হবে?

শুধু অনলাইনে আবেদন করলেই কাজ শেষ হয় না। আবেদন জমা দেওয়ার পর সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কয়েকটি ধাপের মাধ্যমে আবেদনটি যাচাই ও অনুমোদন করা হয়।
  1. আবেদন যাচাই: GP/PS/ZP আবেদন পাওয়ার পর কাগজপত্র ও তথ্য ঠিক আছে কি না তা যাচাই করবে। প্রয়োজনে প্রাথমিক তদন্তও করা হতে পারে।
  2. ফি জানানোর সময়: আবেদন ঠিকঠাক থাকলে শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে ১০ দিনের মধ্যে এবং আবাসিক বা অন্য কাজে ৩০ দিনের মধ্যে SMS-এর মাধ্যমে কত টাকা ফি দিতে হবে তা জানানো হবে। এই তথ্য Application ID দিয়ে পোর্টালেও দেখা যাবে।
  3. ফি জমা: ফি কত টাকা দিতে হবে তা জানার পর ৩ দিনের মধ্যে অনলাইনে ফি জমা দিতে হবে।
  4. অনুমতি পাওয়া: ফি জমা দেওয়ার পর GP/PS/ZP আবেদনটি যাচাই করবে। সব ঠিক থাকলে Building Plan ও Site Plan-সহ বাড়ি তৈরির অনুমতি SMS-এর মাধ্যমে জানানো হবে। এরপর Application ID দিয়ে পোর্টাল থেকে Permission Letter ডাউনলোড করা যাবে।

পঞ্চায়েত এলাকায় বাড়ি তৈরির অনুমতি ফি (Panchayat Building Plan Approval Fees)

পশ্চিমবঙ্গের গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় নতুন বাড়ি তৈরি বা বাড়িতে পরিবর্তন করার জন্য কত টাকা ফি লাগে, তা নিচের দুটি টেবিলে দেওয়া হলো। এই ফি সরকারি P&RD Department এর তথ্য অনুযায়ী দেওয়া হয়েছে।

KMDA ও অন্যান্য Development Authority-র বাইরের গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা
নির্মাণের ধরন নতুন নির্মাণ একক সংযোজন/সংস্কার একক
কাঁচা ঘর (টিন/টালি/খড়ের চাল, ইটের দেয়াল ছাড়া, ১৮ বর্গমিটারের বেশি) ৬০ টাকা প্রতি ঘর নেই
সেমি-পাকা, ইটের দেয়ালসহ (আবাসিক) ১৫০ টাকা প্রতি ঘর ১০০ টাকা প্রতি ঘর
সেমি-পাকা (বাণিজ্যিক) ৩০০ টাকা প্রতি ঘর ২০০ টাকা প্রতি ঘর
পাকা বাড়ি (আবাসিক) ৫০ পয়সা প্রতি বর্গফুট ৫০ পয়সা প্রতি বর্গফুট
পাকা বাড়ি (বাণিজ্যিক) ১ টাকা প্রতি বর্গফুট ১ টাকা প্রতি বর্গফুট
Source: West Bengal Panchayat Act, 1973
KMDA ও অন্যান্য Development Authority-র অধীনস্থ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা
নির্মাণের ধরন নতুন নির্মাণ একক সংযোজন/সংস্কার/পরিবর্তন একক
কাঁচা ঘর (টিন/টালি/খড়ের চাল, ইটের দেয়াল ছাড়া, ১৮ বর্গমিটারের বেশি) ৮০ টাকা প্রতি ঘর নেই
সেমি-পাকা, ইটের দেয়ালসহ (আবাসিক) ২৫০ টাকা প্রতি ঘর ১৫০ টাকা প্রতি ঘর
সেমি-পাকা (বাণিজ্যিক) ৫০০ টাকা প্রতি ঘর ২৫০ টাকা প্রতি ঘর
পাকা বাড়ি (আবাসিক) ১.৫০ টাকা প্রতি বর্গফুট ১.৫০ টাকা প্রতি বর্গফুট
পাকা বাড়ি (বাণিজ্যিক) ২.৫০ টাকা প্রতি বর্গফুট ২.৫০ টাকা প্রতি বর্গফুট
Source: West Bengal Panchayat Act, 1973

আবেদন বাতিল হলে কী করবেন?

কাগজপত্র অসম্পূর্ণ থাকলে বা নিয়ম না মেনে আবেদন করলে আবেদন বাতিল হতে পারে। আবেদন বাতিল হলে কেন বাতিল করা হয়েছে, তার কারণ আবেদনকারীকে জানানো হবে।

  • শিল্প স্থাপনের আবেদনের ক্ষেত্রে: পঞ্চায়েতে হলে ১৫ দিনের মধ্যে, পঞ্চায়েত সমিতিতে হলে ২০ দিনের মধ্যে এবং জেলা পরিষদে হলে ৩০ দিনের মধ্যে জানানো হবে।
  • আবাসিক বাড়ি বা অন্য উদ্দেশ্যের আবেদন ক্ষেত্রে: ৬০ দিনের মধ্যে জানানো হবে।

আবেদনটি বাতিল হলে আগের Application ID দিয়ে “Import” অপশন থেকে পুরনো তথ্য নিয়ে আবার আবেদন করা যাবে। তাই সব তথ্য নতুন করে দিতে হবে না।

সময়মতো অনুমতি না পেলে কী করবেন?

West Bengal Right to Public Services Act, 2013 অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই আবেদনের সিদ্ধান্ত জানাতে হয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাড়ি তৈরির অনুমতি না পেলে বা আবেদন বাতিল হলে আবেদনকারী আপিল করতে পারবেন।
  • প্রথমে Appellate Officer-এর কাছে আপিল করতে হবে।
  • সেখানে সমাধান না হলে Reviewing Officer-এর কাছে আপিল করা যাবে।
  • Reviewing Officer হিসেবে P&RD Department-এর Additional Chief Secretary, Principal Secretary, Special Secretary, Joint Secretary অথবা সংশ্লিষ্ট SDO থাকতে পারেন।
  • Reviewing Authority-এর সিদ্ধান্তই শেষ সিদ্ধান্ত হিসেবে ধরা হবে।

প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQS)

প্রশ্ন: পঞ্চায়েত এলাকায় বিল্ডিং প্ল্যান অ্যাপ্রুভালের ফি কত?

উত্তর: বিল্ডিং প্ল্যান অ্যাপ্রুভালের ফি আপনার এলাকা এবং বাড়ির ধরন অনুযায়ী আলাদা হতে পারে। যেমন, KMDA বা অন্য কোনো Development Authority-র বাইরের গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় নতুন পাকা বাড়ির জন্য প্রতি বর্গফুটে ৫০ পয়সা ফি লাগে। আর Development Authority-র অধীনস্থ পঞ্চায়েত এলাকায় এই ফি প্রতি বর্গফুটে ১.৫০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। কাঁচা ও সেমি-পাকা বাড়ির ক্ষেত্রে প্রতি ঘর হিসেবে ৬০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে ফি নেওয়া হয়।

প্রশ্ন: Town Panchayat আর Village Panchayat-এর বিল্ডিং প্ল্যানের ফি কি একই?

উত্তর: না, একই নয়। Village Panchayat এলাকায় আপনার জমি KMDA বা অন্য কোনো Development Authority-র আওতায় আছে কি না, তার ওপর ফি আলাদা হতে পারে। Development Authority-র আওতায় থাকা পঞ্চায়েত এলাকায় ফি সাধারণত বেশি, আর এর বাইরে থাকা সাধারণ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ফি তুলনামূলক কম। তাই আবেদন করার আগে আপনার এলাকা কোন শ্রেণির মধ্যে পড়ে, সেটা জেনে নেওয়া জরুরি।

প্রশ্ন: পঞ্চায়েত থেকে বাড়ি তৈরির অনুমতি পেতে কতদিন লাগে?

উত্তর: এলাকা ও নির্মাণের ধরন অনুযায়ী সময় আলাদা হতে পারে। শুধু গ্রাম পঞ্চায়েতের আওতায় থাকা আবাসিক বা প্রাতিষ্ঠানিক নির্মাণের ক্ষেত্রে সাধারণত ৬০ দিনের মধ্যে অনুমতি দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। তবে জমিটি কোনো Development Authority-র Planning Area-র মধ্যে পড়লে অনুমতি পেতে ৯০ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

প্রশ্ন: শিল্প স্থাপনের জন্য বাড়ি/স্ট্রাকচার তৈরির অনুমতি পেতেও কি একই সময় লাগে?

উত্তর: না, শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে সময়সীমা তুলনামূলকভাবে কম। শুধু গ্রাম পঞ্চায়েতের (GP) আওতায় থাকা এলাকায় শিল্পের জন্য নির্মাণের অনুমতি ১৫ দিনের মধ্যে দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। আর জমিটি কোনো Development Authority-র Planning Area-র মধ্যে পড়লে ৩০ দিনের মধ্যে অনুমতি দেওয়ার সময়সীমা রয়েছে।

প্রশ্ন: সাইট প্ল্যান ভেটিং-এর জন্য PS বা ZP-তে পাঠাতে হলে কি সময় আরও বাড়ে?

উত্তর: হ্যাঁ, সেক্ষেত্রে সময় কিছুটা বাড়তে পারে। সাধারণভাবে GP এলাকার নির্মাণের অনুমতি পেতে ৬০ দিন সময় থাকলেও, প্ল্যান বা সাইট প্ল্যান PS বা ZP-তে ভেটিংয়ের জন্য পাঠাতে হলে সময়সীমা ৯০ দিন পর্যন্ত হতে পারে।

প্রশ্ন: নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুমতি না পেলে কী করবেন?

উত্তর: নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুমতি না পেলে চিন্তার কিছু নেই। West Bengal Right to Public Services Act, 2013 অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে গেলে প্রথমে Appellate Authority-র কাছে আপিল করা যায়। সেখান থেকেও সমস্যার সমাধান না হলে Reviewing Officer-এর কাছে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

প্রশ্ন: অনলাইনে বিল্ডিং প্ল্যান অ্যাপ্রুভালের জন্য আবেদন করলে ফি কীভাবে জানতে পারব?

উত্তর: আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর GP/PS/ZP আপনার বাড়ির মাপ ও এলাকার ভিত্তিতে ফি হিসাব করবে। এরপর ফি-এর পরিমাণ SMS-এর মাধ্যমে জানানো হবে। একইভাবে, আপনার Application ID ব্যবহার করে পোর্টালেও ফি-এর বিস্তারিত তথ্য দেখা যাবে।

প্রশ্ন: কাঁচা বাড়ি বা টিনের চালার ঘরেও কি ফি দিতে হবে?

উত্তর: হ্যাঁ, ফি দিতে হয়। তবে পাকা বাড়ির তুলনায় এই ফি অনেক কম। খড়, টিন বা টালির চাল এবং ইটের দেয়াল ছাড়া ১৮ বর্গমিটারের বেশি কাঁচা ঘরের নতুন নির্মাণের ক্ষেত্রে এলাকাভেদে সাধারণত ৬০–৮০ টাকা ফি লাগে।

প্রশ্ন: পুরনো বাড়িতে অতিরিক্ত নির্মাণ (সংযোজন) করলে ফি কি নতুন বাড়ির মতোই লাগবে?

উত্তর: না, নতুন বাড়ি তৈরির মতো একই ফি লাগে না। Additional Construction/Remodelling-এর জন্য আলাদা এবং তুলনামূলক কম রেট রয়েছে। তবে কাঠামো যদি একেবারে কাঁচা বা Non-Brick হয়, তাহলে সংযোজন বা সংস্কারের ক্ষেত্রে কোনো ফি লাগে না।

প্রশ্ন: বাণিজ্যিক নির্মাণের ফি কি আবাসিকের চেয়ে বেশি?

উত্তর: হ্যাঁ, বাণিজ্যিক নির্মাণের ক্ষেত্রে ফি আবাসিক নির্মাণের তুলনায় বেশি। একই এলাকা ও একই ধরনের নির্মাণের ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ভবনের জন্য নির্ধারিত ফি আবাসিক ভবনের চেয়ে বেশি। তবে কতটা বেশি হবে, তা নির্মাণের ধরন ও সংশ্লিষ্ট এলাকার সরকারি রেটের ওপর নির্ভর করে।

শেষ কথা

নিয়মগুলো প্রথমে একটু জটিল মনে হলেও, ধাপে ধাপে করলে House Building Plan Approval এর আবেদন করা খুব একটা কঠিন নয়। জমির কাগজপত্র আগে থেকে প্রস্তুত রাখুন, একজন ভালো ইঞ্জিনিয়ারের মাধ্যমে সঠিকভাবে বাড়ির প্ল্যান তৈরি করিয়ে নিন এবং ফর্মটি ভালোভাবে পূরণ করুন। আর হ্যাঁ, শুধু অনলাইনে আবেদন করেই বসে থাকবেন না। প্রয়োজনে পঞ্চায়েতের নির্মাণ সহায়কের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন। তাহলে আবেদনের বিষয়ে কোনো সমস্যা হলে দ্রুত জানতে পারবেন।

সবকিছু নিয়ম মেনে করলে আপনার স্বপ্নের বাড়ি তৈরি করার পথটা অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে। এই বিষয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্টসের মাধ্যমে আমাদের জানাতে পারেন।

Digital Bhumi
Seikh

জমি-জমা, ভূমি রেকর্ড, সরকারি প্রকল্প ও নাগরিক পরিষেবা নিয়ে তথ্যভিত্তিক কনটেন্ট তৈরি করি। সরকারি ও নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য যাচাই করে সহজ ভাষায় তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য, যাতে সাধারণ মানুষ বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা ও আবেদন প্রক্রিয়া সহজে বুঝতে পারেন।

Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url