জমির মিউটেশন অনলাইনে করার নিয়ম ২০২৬: West Bengal-এ Banglarbhumi Mutation Apply

জমির Mutation Apply Online West Bengal - Banglarbhumi পোর্টালে অনলাইনে মিউটেশন আবেদনের নিয়ম ২০২৬
Banglarbhumi পোর্টালে Mutation Application

​আপনি কি নতুন কোনো জমি, বাড়ি বা ফ্ল্যাট কিনেছেন, অথবা উত্তরাধিকার সূত্রে কোনো জমির মালিক হয়েছেন? তাহলে জমির মিউটেশন (Mutation), সহজ কথায় খারিজ বা নামপত্তন করিয়ে নেওয়া জরুরি। ধরুন, আপনি সবেমাত্র একটি জমি কিনেছেন এবং রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে দলিল রেজিস্ট্রি করিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু সরকারি রেকর্ডে এখনও আগের মালিকের নাম রয়েছে। সেই রেকর্ডে নতুন মালিকের নাম তোলার প্রক্রিয়াকেই বলা হয় মিউটেশন। পশ্চিমবঙ্গে এই কাজের জন্য Banglarbhumi পোর্টাল থেকে অনলাইনে আবেদন করা যায়।

এই পোস্টের মাথমে জানতে পারবেন জমির Mutation কেন দরকার, কী কী documents লাগবে, Banglarbhumi তে ধাপে ধাপে কীভাবে আবেদন করবেন, Application Status কীভাবে check করবেন, এবং আবেদন Pending বা Reject হলে কী করণীয়।

জমির Mutation কী?

​ধরুন রহিম বাবু তার জমি করিম বাবুর কাছে বিক্রি করলেন। রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল রেজিস্ট্রি হয়ে গেল, আইনগতভাবে জমিটা এখন করিম বাবুর। কিন্তু Land Reforms Department এর সার্ভারে, অর্থাৎ Record of Rights এ (RoR) তখনও রহিম বাবুর নামই থেকে যাবে, যতক্ষণ না Mutation করা হচ্ছে।

​Mutation হলো সেই প্রক্রিয়া, যেখানে সরকারি Khatian থেকে পুরনো মালিকের নাম কেটে (একে বলে খারিজ) নতুন মালিকের নাম বসানো হয় (একে বলে নামপত্তন)। আইনগতভাবে নামপত্তন আর খারিজ একই প্রক্রিয়ার দুটো নাম। Mutation হয়ে গেলে জমির খাজনা, Property Tax সবকিছু নতুন মালিকের নামে জমা পড়তে শুরু করে।

নামপত্তন ও খারিজ কি একই জিনিস?

​হ্যাঁ, আইনগতভাবে নামপত্তন এবং খারিজ একই প্রক্রিয়ার দুটি ভিন্ন নাম।

  • ​খারিজ: পুরনো মালিকের নাম সরকারি খাতা থেকে কেটে দেওয়া।
  • ​নামপত্তন: নতুন মালিক হিসেবে আপনার নাম সরকারি খাতায় নথিভুক্ত করা।

একটা জরুরি তথ্য জেনে রাখুন: Banglarbhumi পোর্টালের নিজস্ব SoP (Standard Operating Procedure) অনুযায়ী, এখন একটি Automated Mutation System চালু আছে।

রেজিস্ট্রি অফিসে দলিলের রেজিস্ট্রেশন সম্পূর্ণ হলে, সেই দলিল সরাসরি ইলেকট্রনিকভাবে BL&LRO অফিসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রে আলাদা করে Mutation Petition জমা দেওয়ার দরকারই পড়ে না।

বিক্রেতা যদি রেকর্ডভুক্ত মালিক (Recorded Owner) হন, তাহলে কোনো Hearing বা Enquiry ছাড়াই ক্রেতার নাম সরাসরি RoR (Record of Rights)-এ Mutate হয়ে যেতে পারে এবং রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরে বিষয়টি জানানো হয়।

তবে সব ধরনের Mutation Case একইভাবে সম্পন্ন হয় না। যেমন, বিক্রেতা যদি রেকর্ডভুক্ত মালিক না হন, অথবা উত্তরাধিকার, দান কিংবা অন্য কোনো কারণে অতিরিক্ত যাচাইয়ের প্রয়োজন হয়, তাহলে আলাদাভাবে Mutation এর জন্য Online আবেদন করতে হতে পারে।

তাই আপনার ক্ষেত্রে Automated Mutation-এর মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে, নাকি নিজে থেকে Online Mutation আবেদন করতে হবে। তা নির্ভর করবে জমির রেকর্ড, দলিল এবং সংশ্লিষ্ট মামলার প্রকৃতির ওপর।

কখন জমির মিউটেশন করতে হয়?

​নিচের পরিস্থিতিগুলোতে আপনাকে অবশ্যই মিউটেশনের জন্য আবেদন করতে হবে:

  1. জমি বা ফ্ল্যাট ক্রয় করলে: রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হওয়ার সাথে সাথেই।
  2. দানপত্র বা গিফট ডিড পেলে: কেউ আপনাকে জমি দান করলে (Gift Deed)।
  3. উত্তরাধিকার সূত্রে মালিক হলে: বাবা-মা বা পূর্বসূরির মৃত্যুর পর ওয়ারিশান (Succession) সূত্রে জমি পেলে।
  4. বিনিময় বা এক্সচেঞ্জ ডিড হলে: একজনের জমি অন্যজনের জমির সাথে বদল করলে।

পশ্চিমবঙ্গে জমির মিউটেশন কেন করতে হয়?

শুধু দলিল থাকলেই সরকারি রেকর্ডে আপনার নাম উঠে যায় না। দলিল ও মিউটেশন দুটোই একদম আলাদা জিনিস। Mutation না করালে যেসব সমস্যা হতে পারে:
  • খাজনা বা Property Tax এর বিল এখনও আগের মালিকের নামেই আসতে থাকবে।
  • ভবিষ্যতে জমিটা আবার বিক্রি করতে চাইলে বা ব্যাঙ্ক থেকে Loan নিতে চাইলে বাধা আসতে পারে, কারণ রেকর্ডে আপনার নাম নেই।
  • সরকার কোনো জমি অধিগ্রহণ করলে, জমির রেকর্ডে আপনার নাম না থাকলে ক্ষতিপূরণ পেতে সমস্যা বা দেরি হতে পারে।
  • ভবিষ্যতে জমি নিয়ে বিরোধ হলে, Mutation করা Khatian আপনার মালিকানার সবচেয়ে জোরালো প্রমাণ হিসেবে কাজ করে।

কারা মিউটেশন আবেদন করতে পারবেন?

​পশ্চিমবঙ্গে জমির মিউটেশন করতে হলে কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। সহজভাবে বোঝার জন্য নিচের টেবিলে বিষয়গুলো দেওয়া হলো:

আবেদনের কারণ কে আবেদন করতে পারবেন যে কাগজের ভিত্তিতে আবেদন
কেনা জমি যিনি আইনসম্মতভাবে জমি কিনেছেন। রেজিস্টার্ড Sale Deed
দান হিসেবে পাওয়া জমি যিনি দানের মাধ্যমে জমি উপহার পেয়েছেন। গিফট ডিড (Gift Deed)
উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমি জমির মালিক মারা যাওয়ার পর তাঁর আইনসম্মত উত্তরাধিকারীরা। Warish Certificate ও Death Certificate
আদালতের রায়ের ভিত্তিতে পাওয়া জমি আদালতের রায় বা আদেশের মাধ্যমে জমির অধিকার পাওয়া ব্যক্তি। Court Decree বা আদেশনামা

অনেকেই মনে করেন, পৈতৃক সম্পত্তি শুধু মুখে মুখে ভাইদের মধ্যে ভাগ হয়ে গেলেই মিউটেশন করা যায়। এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। যতক্ষণ না বণ্টননামা (Partition Deed) ঠিকভাবে রেজিস্ট্রি করা হচ্ছে, অথবা প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ওয়ারিশ সার্টিফিকেটসহ আইনসম্মত কাগজপত্র দিয়ে আবেদন করা হচ্ছে, ততক্ষণ মিউটেশন আবেদন সাধারণত মঞ্জুর হয় না।

২০২৬ সালের নিয়ম অনুযায়ী, যদি আপনার রেজিস্টার্ড দলিলে কোনো তথ্য—যেমন দাগ নম্বর, খতিয়ান নম্বর, জমির পরিমাণ বা সীমানা ইত্যাদি ভুল থাকে, তাহলে সরাসরি মিউটেশনের আবেদন করবেন না। আগে রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে "সংশোধন দলিল (Rectification Deed)" করতে হবে। এরপর সেই সংশোধিত দলিলের ভিত্তিতে মিউটেশনের আবেদন করতে হবে।
ভুল বা মিল নেই এমন তথ্য দিয়ে আবেদন করলে BL&LRO আবেদনটি বাতিল করতে পারে বা অতিরিক্ত কাগজপত্র চাইতে পারে।

Banglarbhumi Mutation Apply করতে কী কী লাগবে?

আবেদন শুরুর আগে হাতের কাছে এই জিনিসগুলো রেডি রাখুন, তাহলে মাঝপথে আটকে যেতে হবে না:
কী কী লাগবেকেন লাগবে
রেজিস্টার্ড Deed (Sale Deed/Gift Deed/Will ইত্যাদি)জমির মালিকানা বদলের প্রমাণ হিসেবে
বর্তমান Record of Rights বা Khatian কপিজমিটি বর্তমানে কার নামে আছে, তা যাচাই করার জন্য
Chain Deed (পিঠ দলিল)আগের মালিকদের কাছ থেকে মালিকানা কীভাবে এসেছে, তা দেখানোর জন্য
উত্তরাধিকার সূত্রে জমি হলে Legal Heir বা Warish Certificate ও Death Certificateউত্তরাধিকার সূত্রে জমি পাওয়ার প্রমাণ হিসেবে
আপডেটেড খাজনার রসিদ (Up-to-date Rent Receipt)জমির খাজনা পরিশোধের তথ্য দেখানোর জন্য
নির্দিষ্ট ফর্মে Declarationআবেদনের প্রয়োজনীয় ঘোষণা দেওয়ার জন্য
Power of Attorney-এর মাধ্যমে আবেদন হলে সংশ্লিষ্ট নথিঅন্যের হয়ে আবেদন করার অধিকার প্রমাণের জন্য
আধার কার্ড, সচল মোবাইল নম্বর ও ইমেল আইডিStatus update, শুনানির নোটিশ ও Mutation Certificate সংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার জন্য
Plot নম্বর, Khatian নম্বর, District, Block ও Mouza-র তথ্যজমির সঠিক বিবরণ দেওয়ার জন্য

আবেদনের ধরন (কেনা/উত্তরাধিকার/দান) অনুযায়ী প্রয়োজনীয় document একটু আলাদা হতে পারে। পোর্টালে সব নথি PDF ফরম্যাটে আপলোড করতে হয়, তাই আপলোডের আগে সব ফাইল পরিষ্কারভাবে স্ক্যান করা আছে কিনা দেখে নিন।  মনে রাখবেন ঝাপসা ডকুমেন্টস দিলে verification করতে সমস্যা হতে পারে।

Banglarbhumi-তে Mutation Apply করার নিয়ম

এবার আসল কাজে আসা যাক। এবার ধাপে ধাপে দেখে নিন, ২০২৬ সালে কীভাবে Online-এ Mutation Apply করবেন। আবেদন করার সময় এই গাইডটি মোবাইল বা কম্পিউটারে পাশে খুলে রাখুন। তাহলে ধাপগুলো দেখে সহজেই আবেদন করতে পারবেন এবং ভুল হওয়ার সম্ভাবনাও কমবে।

Step 1: Official Banglarbhumi Website খুলুন

ব্রাউজারে গিয়ে banglarbhumi.gov.in লিখে অফিসিয়াল Banglarbhumi ওয়েবসাইটে ঢুকুন। আবেদন করার আগে URL-টি ভালো করে মিলিয়ে নিন, যাতে ভুল বা নকল কোনো ওয়েবসাইটে না ঢুকে পড়েন।

Step 2:  Banglarbhumi-তে Signup এবং Login

অনলাইনে Mutation Application করতে প্রথমে Banglarbhumi পোর্টালে একটি অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। আগে থেকে অ্যাকাউন্ট না থাকলে ওপরের মেনুবার থেকে Sign Up-এ ক্লিক করুন। এরপর প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে OTP ভেরিফাই করে একটি পাসওয়ার্ড সেট করুন এবং নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন।

অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়ে গেলে Login-এ ক্লিক করুন। এরপর আপনার ইউজারনেম (মোবাইল নম্বর), পাসওয়ার্ড এবং Captcha দিয়ে লগইন করুন।

Step 3: Online Application নির্বাচন করুন

সফলভাবে Login করার পর উপরের মেনু থেকে Citizen Services বাটনে ক্লিক করুন। এরপর Online Application নির্বাচন করে Mutation Application-এ ক্লিক করুন। এবার আপনার সামনে Mutation-এর আবেদন ফর্মটি খুলবে।

Banglarbhumi Mutation Application 2026
Banglarbhumi-তে Mutation Application করার ধাপ।

Step 4: Applicant Description (আবেদনকারীর তথ্য)

​এই সেকশনে যিনি জমির Mutation এর জন্য আবেদন করছেন, তাঁর ব্যক্তিগত তথ্য দিতে হবে।

  • ​District, Block, Mouza: ড্রপডাউন মেনু থেকে আপনার জমিটি যে জেলা, ব্লক এবং মৌজার অধীনে অবস্থিত, তা সঠিকভাবে নির্বাচন করুন। (এটি আপনার দলিলের প্রথম বা দ্বিতীয় পাতায় পেয়ে যাবেন)।
Banglarbhumi Mutation Apply 2026 Applicant Description
Banglarbhumi-তে Mutation Apply করার সময় Applicant Description
  • ​Applicant Type: আপনি যদি নিজের জন্য আবেদন করেন তবে 'Self' নির্বাচন করুন। অন্য কারও হয়ে করলে 'Power of Attorney' বা 'Agent' সিলেক্ট করতে হবে।
  • ​Khatian Present: আপনার কি এই মৌজায় আগে থেকে কোনো খতিয়ান আছে? যদি থাকে তবে 'Yes' লিখে সেই খতিয়ান নম্বরটি দিন (যেমন—১২৩৪)। যদি আপনি ওই মৌজায় প্রথমবার জমি কেনেন, তবে 'No' সিলেক্ট করুন।
  • Industrial Purpose: জমিটি কি কোনো শিল্প বা কারখানার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে? না হলে 'No' সিলেক্ট করবেন।
  • Is the Seller/Transferor/Predecessor Recorded Owner?: জমিটি যাঁর থেকে কিনছেন, সরকারি রেকর্ডে (খতিয়ানে) কি সরাসরি তাঁর নাম রয়েছে? যদি থাকে তবে 'Yes' সিলেক্ট করবেন।
  • ​First Name & Last Name: এখানে আবেদনকারীর (ক্রেতার) নাম ও পদবি লিখুন।
  • ​Father/Husband/Others Name: অভিভাবকের নাম ও তাঁর সাথে সম্পর্ক (Relationship) সিলেক্ট করুন।
  • ​Address 1, 2, 3 : আপনার যোগাযোগের ঠিকানা লিখুন। মনে রাখবেন, এখানে কোনো কমা (,), স্ল্যাশ (/) বা ড্যাশ (-) এর মতো স্পেশাল ক্যারেক্টার দেওয়া যাবে না।
  • Mode Of Transfer/Succesion/Sale: জমিটি আপনি কীভাবে পেয়েছেন? কেনা জমি হলে 'Sale' সিলেক্ট করুন। এছাড়া দানপত্র হলে 'Gift', পৈত্রিক বা উত্তরাধিকার সূত্রে হলে 'As Legal Heir' বা 'will' বাছতে পারেন।
  • District & Registry Office: জমিটি যে জেলায় এবং যে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে রেজিস্ট্রি হয়েছে, তা ড্রপডাউন থেকে সিলেক্ট করুন।
  • Deed No: আপনার রেজিস্টার্ড দলিলের ৪ বা ৫ ডিজিটের দলিল নম্বরটি লিখুন।
  • Date of Deed: দলিলটি যে তারিখে রেজিস্ট্রি হয়েছে, সেই তারিখটি দিন।
  • Deed executed by Power of Attorney (POA)?: বিক্রেতা কি কোনো পাওয়ার অফ অ্যাটর্নির মাধ্যমে জমিটি বিক্রি করেছেন? না হলে 'No' সিলেক্ট করবেন।
Banglarbhumi Mutation Buyer Details 2026
Banglarbhumi Mutation Apply 2026-এ ক্রেতার ব্যক্তিগত তথ্য (Buyer Details) পূরণ করার ধাপ।

ক্রেতার ব্যক্তিগত তথ্য (Buyer Details)

ক্রেতার কিছু অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য দিতে হবে:

  • Caste: ড্রপডাউন থেকে আপনার জাতি (General, SC, ST, OBC) নির্বাচন করুন।
  • ​Gender: আপনার লিঙ্গ (Male/Female) সিলেক্ট করুন।
  • ​Tenant Type: আপনি কী ধরনের প্রজা/খাতক (যেমন: রায়ত বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণী) তা বাছুন।
  • ​Religion: আপনার ধর্ম সিলেক্ট করুন।
  • ​Aadhaar Nimber: আপনার ১২ ডিজিটের আধার কার্ড নম্বরটি টাইপ করুন।
  • ​Mobile No. (Linked With AADHAR/Bank): আপনার আধার কার্ড বা ব্যাংকের সাথে লিঙ্ক থাকা ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরটি দিন এবং পাশে থাকা ভেরিফিকেশন বাটনে ক্লিক করে ওটিপি (OTP) দিয়ে ভেরিফাই করুন।
  • ​EMail-ID: আপনার সচল ইমেইল আইডিটি দিন।
Banglarbhumi Mutation Buyer Details 2026
Banglarbhumi Mutation Apply 2026-এ ক্রেতার ব্যক্তিগত তথ্য (Buyer Details) পূরণ করার ধাপ।

মিউটেশন আবেদনের সময় আপনার নিজের মোবাইল নম্বর ও ইমেইল আইডি ব্যবহার করুন। আবেদনের প্রতিটি স্ট্যাটাস আপডেট, হিয়ারিং (Hearing) এর নোটিশ এবং অনুমোদনের পর Mutation Certificate ডাউনলোড করার তথ্য এই মোবাইল নম্বর ও ইমেইলেই পাঠানো হয়।

কোনো সাইবার ক্যাফে, এজেন্ট বা অন্য কারও মোবাইল নম্বর বা ইমেইল ব্যবহার করবেন না। এতে গুরুত্বপূর্ণ নোটিশ, OTP বা মিউটেশন সংক্রান্ত তথ্য আপনার কাছে নাও পৌঁছাতে পারে।

Step 5: Particulars of Transferer (বিক্রেতার বিবরণ) পূরণ

এখানে জমিটি আপনাকে যিনি রেজিস্ট্রি করে দিয়েছেন (অর্থাৎ পুরনো মালিক বা বিক্রেতা), তাঁর বিবরণ দিতে হবে।
  • First Name & Last Name: দলিলের প্রথম বা তফশিল পাতা দেখে বিক্রেতার নাম ও পদবি আলাদা বক্সে লিখবেন।
  • Relationship (Husband/Father/Others): বিক্রেতা যদি কোনো বিবাহিত মহিলা হন তবে 'Husband', পুরুষ বা অবিবাহিত হলে 'Father' এর আগে টিক দিয়ে নিচে তাঁর অভিভাবকের নাম টাইপ করুন।
  • Address: বিক্রেতার ঠিকানা ৩টি লাইনে লিখতে হবে। ঠিকানার বক্সে কোনো কমা (,), ড্যাশ (-), বা স্ল্যাশ (/) চিহ্নে ব্যবহার করবেন না। শুধু স্পেস দিয়ে সাধারণ টেক্সট লিখবেন (যেমন: Vill Raigram PO Raigram)।
  • Plot Number: জমির দাগ নম্বরটি প্রথম বক্সে লিখুন। যদি কোনো বাটা দাগ নম্বর থাকে, তবে স্ল্যাশের (/) পরের বক্সে সেটি বসাবেন।
  • Khatian Number: বিক্রেতার খতিয়ান নম্বরটি (যে খতিয়ান থেকে জমিটি আপনার নামে আসছে), সেই নম্বরটি প্রথম বক্সে লিখুন।
  • Share Area: দলিলের পরিমাপ অনুযায়ী আপনি ওই দাগের ঠিক যতটুকু অংশ কিনেছেন বা পেয়েছেন, সেই সংখ্যাটি এখানে লিখুন এবং পাশের (UNITS) ড্রপডাউন থেকে একক (যদি Acre যেমন: Acre) সিলেক্ট করুন।
  • Land Classification Deed Wise: দলিলে জমিটির যে শ্রেণী উল্লেখ রয়েছে (যেমন: বাস্তু, শালি, ডাঙা, আমন ইত্যাদি) তা ড্রপডাউন থেকে সিলেক্ট করুন।
  • Purpose of Mutation: মিউটেশনের পর জমিটি কী কাজে ব্যবহার করা হবে (যেমন: বসবাসের নাকি কৃষির জন্য) তা সিলেক্ট করুন।
  • Mobile Number: এখানে বিক্রেতার একটি সচল মোবাইল নম্বর দিন।
Banglarbhumi Mutation Transferer Details 2026
Banglarbhumi Mutation Apply 2026-এ বিক্রেতার বিবরণ (Particulars of Transferer) পূরণ করার ধাপ।

সব তথ্য সঠিকভাবে টাইপ করার পর নিচে থাকা সবুজ রঙের Add বোতামটিতে ক্লিক করতে হবে। তারপর একদম নিচে দেখতে পাবেন একটি লিঙ্ক রয়েছে: "Go To Next Tab for Final Submit.."। এই লিঙ্কটিতে ক্লিক করলেই আপনি ফর্মের শেষ ধাপ অর্থাৎ "List of Enclosures" (ডকুমেন্ট বা দলিল আপলোড) সেকশনে চলে যাবেন।

যদি একটি রেজিস্টার্ড দলিলে একাধিক দাগের জমি থাকে, তাহলে প্রথম দাগের তথ্য পূরণ করার পর নিচে থাকা 'Add বাটনে ক্লিক করে পরবর্তী দাগের তথ্য যুক্ত করুন। সব দাগের তথ্য যোগ করার পর অবশ্যই মোট জমির পরিমাণ (Total Area) রেজিস্টার্ড দলিলে উল্লেখিত পরিমাণের সঙ্গে মিলিয়ে নিন। তথ্যে কোনো ভুল থাকলে আবেদন প্রক্রিয়ায় দেরি হতে পারে।

Step 6: দলিল এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস সাবমিট করুন

মিউটেশন আবেদন প্রক্রিয়ার একেবারে শেষ ধাপ, অর্থাৎ List of Enclosures। এখানে কোন কোন চেকেবক্সে টিক দিতে হবে এবং কীভাবে ফর্মটি সাবমিট করবেন, তা সহজে বুঝিয়ে দেওয়া হলো:

নথিপত্র আপলোড করার নিয়মাবলী (File Guidelines)

  1. ফাইল ফরম্যাট: সমস্ত ডকুমেন্ট অবশ্যই PDF টাইপ হতে হবে।
  2. ফাইলের সাইজ: প্রতিটি পিডিএফ ফাইলের সাইজ সর্বোচ্চ 2 MB বা তার কম হতে হবে।

List of Enclosures (নথিপত্রের তালিকা নির্বাচন)

আপনার জমির ধরন এবং যেভাবে জমিটি পেয়েছেন (যেমন: কেনা, পৈত্রিক বা দানসূত্র), সেই অনুযায়ী নির্দিষ্ট বক্সগুলোতে টিক দিন:

  • রেজিস্ট্রিকৃত দলিল (Copy of registered deed): যদি জমিটি কিনে থাকেন, তবে মূল দলিলের কপির পাশের বক্সে টিক দেবেন।
  • ​উত্তরাধিকার সংক্রান্ত শংসাপত্র (Legal heir certificate / Hebanama): পৈত্রিক সূত্রে মালিকানা হলে এটি টিক করুন।
  • ​পিঠ দলিল (Copy of chain deeds): যদি জমির পুরোনো দলিল (Chain Deed) থাকে, তবে এখানে টিক দিন।
  • ​আপডেটেড খাজনার রসিদ (Up-to-date rent receipt): জমির সর্বশেষ খাজনা দেওয়া থাকলে এই অপশনটি নির্বাচন করুন।
  • ​নির্দিষ্ট ফর্মে ঘোষণাপত্র (Declaration in prescribed Form): ১০ টাকার কোর্ট ফি স্ট্যাম্পসহ ঘোষণাপত্র জমা দিলে এটি টিক করুন।
  • স্বাক্ষর করা আবেদনপত্র (Duly signed application form): আবেদনের প্রিন্ট কপিতে সই করা থাকলে এই অপশনটি বাছুন।
  • ​মোক্তারনামা (Power of attorney): পাওয়ার অফ অ্যাটর্নির মাধ্যমে আবেদন করলে টিক দিন।
  • ​আদালতের মামলার রায়(Court case judgement/probate): কোর্টের কোনো রায় থাকলে এটি সিলেক্ট করুন।
  • ​উইলনামা (Will): উইলের মাধ্যমে সম্পত্তি পেয়ে থাকলে এই বক্সে টিক দিন।
  • ​মৃত্যু শংসাপত্র (Death certificate or proof of death of ancestor): পূর্বসূরি মারা গেলে তাঁর সম্পত্তি নিজের নামে রেকর্ড করতে এই অপশনটি বাছুন।
  • ​জাতিগত শংসাপত্র (Caste Certificate): কাস্ট সার্টিফিকেট সংযুক্ত করতে এটিতে টিক দিন।
Banglarbhumi Mutation Documents Submit 2026
Banglarbhumi Mutation Apply 2026-এ দলিল ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস সাবমিট করার ধাপ।

Step 7: আবেদন জমা দেওয়ার পদ্ধতি

ডকুমেন্ট তালিকা নির্বাচন শেষ হলে, ফর্মের একেবারে নিচে এসে সাবমিট করতে হবে:

  1. ​Type The Characters Shown: স্ক্রিনে যে ক্যাপচা কোডটি দেখতে পাচ্ছেন (যেমন আপনার স্ক্রিনশটে CWVEEF লেখা আছে), তা বামদিকের খালি বক্সে হুবহু টাইপ করুন।
  2. Declaration Checkbox: ক্যাপচার নিচে থাকা বড় ঘোষণা বা শর্তাবলীর পাশের চারকোণা চেকেবক্সটিতে টিক দিন।
  3. Submit: এবার নিচে Submit বাটনটিতে ক্লিক করুন।
Banglarbhumi Mutation Application Submit 2026
Banglarbhumi Mutation Apply 2026-এ আবেদন জমা দেওয়ার পদ্ধতি।

ক্লিক করার সাথে সাথেই আপনার আবেদনটি জমা হয়ে যাবে এবং স্ক্রিনে একটি Application Number চলে আসবে। সেটি নোট করে রেখে পরবর্তীতে সরকারি ফি জমা দিলেই আপনার মিউটেশন আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে।

আবেদন সাবমিট করার পর সরকারি ফি জমা দিতে হবে। ফি জমা না দেওয়া পর্যন্ত আপনার আবেদনটি BL&LRO অফিসের কর্মকর্তাদের কাছে প্রসেসিংয়ের জন্য দেখা যাবে না। অর্থাৎ, ফি পরিশোধ করার পরেই আবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রক্রিয়াকরণের জন্য পাঠানো হয়।

অনলাইন মিউটেশন ফি পেমেন্ট (Mutation Fees Payment)

​আবেদন সাবমিট করার পর পশ্চিমবঙ্গ সরকারের GRIPS পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে Mutation এর fees জমা দিতে হবে।

  1. ​Banglarbhumi পোর্টালে লগইন করে Citizen Services-এ যান।
  2. এখন Online Application অপশনে ক্লিক করুন।
  3. ​সেখান থেকে Fees Payment অপশনে ক্লিক করুন।
  4. ​'Request Type'-এ Mutation সিলেক্ট করুন এবং আপনার Application Number (যেমন:  MUT/2026/1234567) দিয়ে ভেরিফাই করুন।
  5. ​স্ক্রিনে আপনার নাম, অ্যাপ্লিকেশনের তারিখ এবং Mutation fees এর পরিমাণ দেখাবে। এবার GRIPS গেটওয়ে সিলেক্ট করে নেট ব্যাংকিং, ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড বা UPI (GPay/PhonePe)-এর মাধ্যমে পেমেন্ট সম্পন্ন করুন।
  6. ​পেমেন্ট সফল হলে GRN (Government Reference Number) এবং পেমেন্ট রসিদটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে রাখুন।
Banglarbhumi Mutation Fees Payment 2026
Banglarbhumi Mutation Apply 2026-এ Mutation Fees Payment করার পদ্ধতি।

পশ্চিমবঙ্গে জমির Mutation করতে কত টাকা লাগে?

West Bengal সরকারের L&LR and RR&R Department-এর Circular No. 398-LP/5M-33/15, dated 02.02.2017 অনুযায়ী। Mutation এর ফি জমির ধরন এবং জমিটি গ্রামাঞ্চল, মিউনিসিপ্যাল এলাকা বা KMDA এলাকার মধ্যে কোথায় রয়েছে, তার ওপর Mutation-এর Processing Fee নির্ভর করে। এই ফি সাধারণত প্রতি Decimal জমির হিসাবে নির্ধারণ করা হয়।

জমির শ্রেণী Rural Area Municipal Area
(KMDA বাদে)
Municipal Area
(KMDA এর মধ্যে)
Agri Land (কৃষি জমি) ৪০ টাকা/শতক ৬০ টাকা/শতক ৮০ টাকা/শতক
Non-Agri & Non-Commercial Land (অকৃষি ও অবাণিজ্যিক জমি) ১০০ টাকা/শতক ১৫০ টাকা/শতক ২০০ টাকা/শতক
Commercial ও Industrial Land (বাণিজ্যিক ও শিল্প জমি)
(১০ শতক পর্যন্ত)
৫০০ টাকা/শতক ১৫০০ টাকা/শতক ৫০০০ টাকা/শতক
Commercial ও Industrial Land (বাণিজ্যিক ও শিল্প জমি)
(১০ শতকের বেশি)
১০০০ টাকা/শতক ৩০০০ টাকা/শতক ১০০০০ টাকা/শতক

মনে রাখবেন, এই Circular-টি ২০১৭ সালের এবং বর্তমানে Banglarbhumi পোর্টালে এই হারগুলিই প্রদর্শিত হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে সরকারি ফি পরিবর্তন হতে পারে। তাই আবেদন Submit করার পর Fees Payment ধাপে GRIPS পোর্টালে আপনার জমির তথ্য অনুযায়ী যে ফি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেখানো হবে, সেটাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং আপডেটেড ফি।

পশ্চিমবঙ্গে জমির Mutation করতে কতদিন সময় লাগে?

Banglarbhumi পোর্টালের নিজস্ব SoP (Standard Operating Procedure for Disposal of Mutation) অনুযায়ী, মিউটেশন আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্পষ্ট নিয়ম রয়েছে:

  • বিক্রেতা যদি রেকর্ডভুক্ত মালিক (Recorded Owner) হন, তাহলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কোনো Hearing বা Enquiry ছাড়াই ক্রেতার নাম সরাসরি RoR-এ Mutate হয়ে যেতে পারে। মিউটেশন সম্পন্ন হলে রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরে জানানো হয়। এই ধরনের ক্ষেত্রে সাধারণত প্রক্রিয়াটি তুলনামূলকভাবে দ্রুত সম্পন্ন হতে পারে।
  • অন্য ধরনের Mutation Case হলে, প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দপ্তর (ULC/LA)-তে Reference পাঠানো হয়। সেখান থেকে ১৪ দিনের মধ্যে কোনো জবাব না এলে, Mutation-এর বিরুদ্ধে কোনো আপত্তি নেই বলে ধরে নেওয়া হয়।
  • এছাড়া, কোনো অবস্থাতেই Mutation আবেদন সম্পূর্ণ করতে ৬০ দিনের বেশি সময় লাগার কথা নয়।
তবে আপনার আবেদনের ক্ষেত্রে ঠিক কত সময় লাগবে, তা নথিপত্র সম্পূর্ণ আছে কি না এবং Hearing-এর প্রয়োজন রয়েছে কি না, তার ওপর নির্ভর করবে। তাই Application Number ব্যবহার করে নিয়মিত Banglarbhumi পোর্টালে আবেদনের Status Check করে রাখা ভালো।

মিউটেশন আবেদনের স্ট্যাটাস কীভাবে দেখবেন (Mutation Status Check)

​ফি জমা দেওয়ার পর আপনার আবেদনটি সংশ্লিষ্ট ব্লকের BL&LRO অফিসের রেভিনিউ অফিসারের কাছে চলে যায়। আবেদনটি কোন অবস্থায় আছে তা আপনি ঘরে বসেই ট্র্যাক করতে পারবেন।

বাংলারভূমি পোর্টালে লগইন করুন (1) Citizen Services (2) Online Service Status  (3) Mutation Status অপশনে ক্লিক করুন। আপনার অ্যাপ্লিকেশন নম্বর এবং কেস নম্বর ও ক্যাপচা কোড দিয়ে submit করলেই বর্তমান স্ট্যাটাস দেখতে পাবেন। যদি শুনানির (Hearing) দিন ধার্য হয়, তাহলে সেই নোটিশটি ওখানেই দেখতে পাবেন। মিউটেশন আবেদনের স্ট্যাটাস, কেসের অগ্রগতি ও হিয়ারিং (Hearing) নোটিশ দেখার সম্পূর্ণ Step-by-Step নির্দেশিকা দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

Banglarbhumi Mutation Status Check 2026
Banglarbhumi-তে Mutation Status অনলাইনে চেক করার পদ্ধতি।

Mutation Application Pending হলে কী করবেন?

আবেদনটা Pending থাকার পিছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। হয়তো কাগজপত্র যাচাই করতে সময় লাগছে, অফিসে অনেক আবেদন জমা পড়েছে, অথবা কোনো তথ্য আবার যাচাই করা হচ্ছে। তবে আপনার আবেদনটা কেন Pending আছে, সেটা না দেখে ঠিক কারণ বলা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে যা করবেন:
  • পোর্টালে মাঝে মাঝে ঢুকে আপনার আবেদনের Status Check করে দেখুন।
  • শুনানির নোটিশ এলে নির্দিষ্ট দিনে প্রয়োজনীয় মূল কাগজপত্র নিয়ে উপস্থিত থাকুন।
  • অনেকদিন ধরে কোনো আপডেট না এলে সংশ্লিষ্ট BL&LRO অফিসে যোগাযোগ করুন। সঙ্গে Application Number রাখবেন, তাহলে আপনার আবেদনের বর্তমান অবস্থা জানতে সুবিধা হবে।

Mutation Application Reject হলে কী করবেন?

আবেদন Reject হলে সাধারণত পোর্টাল বা SMS এর মাধ্যমে Reject হওয়ার কারণ জানানো হয়। প্রথমে সেই কারণটা ভালো করে দেখে নিন। অনেক সময় কাগজপত্রের কোনো সমস্যা, তথ্যের ভুল বা তথ্যের মধ্যে মিল না থাকার কারণে আবেদন Reject হতে পারে। এক্ষেত্রে যা করবেন:
  • যে কারণে আবেদন Reject হয়েছে, সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস ঠিক করুন।
  • কোনো ভুল থাকলে সেটা সংশোধন করে আবার Mutation Application জমা দিন। মনে রাখবেন, আগের আবেদনের সরকারি ফি সাধারণত ফেরত দেওয়া হয় না। তাই নতুন করে আবেদন করলে আবার ফি দিতে হতে পারে।
  • দলিলে দাগ নম্বর, খতিয়ান নম্বর বা জমির পরিমাণে ভুল থাকলে আগে অনলাইনে Rectification deed apply করে রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে দলিল সংশোধন করিয়ে নিন। তারপর সেই সংশোধিত দলিল দিয়ে আবার Mutation-এর জন্য আবেদন করুন।
  • যদি মালিকানা নিয়ে বিরোধের মতো কোনো জটিল কারণে আবেদন Reject হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট BL&LRO অফিসে সরাসরি যোগাযোগ করে কারণটা বিস্তারিত জেনে নেওয়াই ভালো।

পশ্চিমবঙ্গে জমির Mutation এবং Registration কি একই?

বিষয় Registration Mutation
এতে কী হয় দলিল রেজিস্ট্রি অফিসে নথিভুক্ত হয় Khatian-এ নতুন মালিকের নাম বসে
দায়িত্বরত ডিপার্টমেন্ট Registration Department (WB Registration) Land & Land Reforms Department (Banglarbhumi)
কি প্রমাণ করে জমি হস্তান্তরের লেনদেন আইনগতভাবে হয়েছে সরকারি রেকর্ডে বর্তমান মালিক কে
না করলে কি হবে জমি হস্তান্তরই আইনগতভাবে বৈধ হয় না খাজনা বা Tax পুরনো মালিকের নামে থেকে যায়
কখন করা হয় জমি হস্তান্তরের সময়েই Registration-এর পরে আলাদাভাবে

সহজ কথায়, Registration হলো জমি হস্তান্তরের আইনি প্রমাণ, আর Mutation হলো সেই প্রমাণ অনুযায়ী সরকারি রেকর্ডে নতুন মালিকের নাম যোগ করা। তাই দুটোই আলাদা কাজ। তাই একটা করলেই অন্যটা নিজে থেকে হয়ে যায় না।

Mutation আবেদন করার সময় কোন ভুলগুলো করবেন না?

ভুল ১: দলিলের থাকা বানানের সাথে নামের অমিল।

দলিলে যে বানানে নাম রয়েছে, অনলাইন আবেদনে ঠিক সেই বানানই লিখুন। ভোটার বা আধার কার্ডে বানান আলাদা হলেও রেজিস্টার্ড দলিলের বানানই অনুসরণ করুন।

ভুল ২: ভুল দাগ নম্বর (Plot Number) টাইপ করা।

আরএস (RS) ও এলআর (LR) দাগ নম্বর গুলিয়ে ফেলবেন না। আবেদন করার আগে দলিল ও রেকর্ড মিলিয়ে সঠিক এলআর দাগ নম্বর ব্যবহার করুন।

ভুল ৩: ভুল মৌজা (Mouza) নির্বাচন করা।

ড্রপডাউন থেকে ভুল মৌজা নির্বাচন করলে আবেদন ভুল জমির সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। আবেদন করার আগে দলিল অনুযায়ী মৌজার নাম এবং JL নম্বর মিলিয়ে নিন।

ভুল ৪: জমির পরিমাণের ভুল রূপান্তর (Calculation Error)। 

ছটাক, শতক বা স্কয়ার ফিট রূপান্তরের সময় ভুল হলে আবেদন বাতিল বা সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে। তথ্য দেওয়ার আগে হিসাব ভালোভাবে যাচাই করুন।

ভুল ৫: অস্পষ্ট বা ঝাপসা PDF আপলোড করা।

মোবাইলে তোলা অস্পষ্ট ছবি আপলোড না করে পরিষ্কার স্ক্যান করা PDF ব্যবহার করুন। ঝাপসা নথি যাচাই করা সম্ভব না হলে আবেদন আটকে যেতে পারে।

ভুল ৬: পিট দলিল বা চেইন ডিড যুক্ত না করা।

বিক্রেতার নামে সরকারি রেকর্ড না থাকলে প্রয়োজনীয় চেইন ডিড (Chain Deed) সংযুক্ত করুন। এটি না দিলে মালিকানার ধারাবাহিকতা যাচাইয়ে সমস্যা হতে পারে এবং আবেদন বিলম্বিত বা বাতিল হতে পারে।

ভুল ৭: ভুল খতিয়ান নম্বর দেওয়া।

খতিয়ান নম্বর ভুল দিলে সিস্টেমে অন্য জমির তথ্য প্রদর্শিত হতে পারে। আবেদন করার আগে দলিল ও বর্তমান রেকর্ড দেখে খতিয়ান নম্বর মিলিয়ে নিন।

ভুল ৮: ফি পেমেন্ট না করে আবেদন অসম্পূর্ণ রাখা।

আবেদন জমা দেওয়ার পর নির্ধারিত ফি পরিশোধ না করলে আবেদন সম্পূর্ণ হয় না এবং কেস নম্বরও জেনারেট হয় না। তাই আবেদন শেষে পেমেন্টের অবস্থা অবশ্যই যাচাই করুন।

ভুল ৯: ভুল মোবাইল নম্বর বা ইমেইল দেওয়া।

ভুল মোবাইল নম্বর বা ইমেইল ব্যবহার করলে OTP, শুনানির নোটিশ এবং আবেদন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা আপনার কাছে পৌঁছাবে না। সবসময় নিজের সক্রিয় মোবাইল নম্বর ও ইমেইল ব্যবহার করুন।

ভুল ১০: জমির শ্রেণী ভুল নির্বাচন করা।

দলিলে উল্লেখিত জমির শ্রেণী (যেমন কৃষি, বাস্তু ইত্যাদি) না মিলিয়ে অন্য শ্রেণী নির্বাচন করলে আবেদন যাচাইয়ের সময় আপত্তি উঠতে পারে। আবেদন করার আগে দলিল ও রেকর্ড অনুযায়ী জমির শ্রেণী নিশ্চিত করুন।

ভুল ১১: উত্তরাধিকার সূত্রে ডেথ সার্টিফিকেট আপলোড না করা।

উত্তরাধিকার সূত্রে মিউটেশনের আবেদন করলে মূল মালিকের ডেথ সার্টিফিকেট সংযুক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নথি না থাকলে আবেদন যাচাই প্রক্রিয়ায় বিলম্ব বা জটিলতা হতে পারে।

ভুল ১২: ওয়ারিশ সার্টিফিকেটে সকল আইনি উত্তরাধিকারীর নাম না থাকা।

ওয়ারিশ সনদে যদি কোনো বৈধ উত্তরাধিকারীর নাম বাদ পড়ে, তাহলে ভবিষ্যতে আপত্তি বা আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। আবেদন করার আগে সনদে সকল উত্তরাধিকারীর নাম রয়েছে কিনা নিশ্চিত করুন।

ভুল ১৩: আদালতের মামলার তথ্য গোপন করা।

জমি সংক্রান্ত কোনো দেওয়ানি মামলা বা আদালতের স্থগিতাদেশ (Injunction) থাকলে তা গোপন করবেন না। প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি সঠিকভাবে উল্লেখ করলে পরবর্তী জটিলতা এড়ানো যায়।

ভুল ১৪: পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি (POA) যাচাই না করা।

পাওয়ার অফ অ্যাটর্নির (POA) ভিত্তিতে আবেদন করলে বৈধ ও প্রয়োজনীয় নথি সংযুক্ত করুন। অসম্পূর্ণ বা অকার্যকর POA থাকলে আবেদন গ্রহণে সমস্যা হতে পারে।

ভুল ১৫: PDF ফাইলের সাইজ বেশি হওয়া।

নির্ধারিত সীমার চেয়ে বড় PDF আপলোড করলে ফাইল আপলোড ব্যর্থ হতে পারে। আপলোড করার আগে ফাইলের সাইজ পোর্টালের নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়েছে কিনা নিশ্চিত করুন।

ভুল ১৬: যৌথ দলিলের ক্ষেত্রে সঠিকভাবে আবেদন না করা। 

একই দলিলে একাধিক ক্রেতা থাকলে আবেদন করার আগে প্রত্যেকের মালিকানার অংশ ও প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে উল্লেখ করুন। অসম্পূর্ণ তথ্য দিলে আবেদন যাচাইয়ে বিলম্ব হতে পারে।

ভুল ১৭: নাবালকের জমির ক্ষেত্রে অভিভাবকের তথ্য না দেওয়া।

যদি জমির মালিক নাবালক হন, তাহলে আবেদন করার সময় আইনসম্মত অভিভাবকের (Legal Guardian) তথ্য ও প্রয়োজনীয় নথি অবশ্যই প্রদান করুন।

ভুল ১৮: কোম্পানি বা ট্রাস্টের প্রয়োজনীয় নথি সংযুক্ত না করা। 

কোম্পানি, সোসাইটি বা ট্রাস্টের নামে আবেদন করলে প্রয়োজনীয় রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট, অনুমোদিত প্রতিনিধির নথি এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বোর্ড রেজোলিউশন সংযুক্ত করুন।

ভুল ১৯: খাজনা বা ট্যাক্স বকেয়া রেখে আবেদন করা।

জমির খাজনা বা প্রযোজ্য কর বকেয়া থাকলে অনেক ক্ষেত্রে আবেদন প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হতে পারে। আবেদন করার আগে বকেয়া রয়েছে কিনা যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন।

ভুল ২০: শুনানির দিনে উপস্থিত না থাকা।

যদি BL&LRO অফিস থেকে সশরীরে বা অনলাইন শুনানির জন্য ডাকা হয়, তাহলে নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে উপস্থিত থাকুন। অনুপস্থিত থাকলে আবেদন সম্পুর্ণ হতে দেরি হয় বা প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (Faqs)

প্রশ্ন. অনলাইনে মিউটেশন করতে সরকারি ফি কত লাগে?
জমির শ্রেণী এবং এলাকা অনুযায়ী প্রতি শতক হারে সরকারি ফি ধার্য করা হয়, যা নিচে দেওয়া হলোঃ

কৃষি জমি: গ্রামীণ এলাকায় ৪০ টাকা, পৌর এলাকায় (KMDA বাদে) ৬০ টাকা, KMDA এলাকায় ৮০ টাকা প্রতি শতক।

অ-কৃষি ও অ-বাণিজ্যিক জমি: গ্রামীণ এলাকায় ১০০ টাকা, পৌর এলাকায় (KMDA বাদে) ১৫০ টাকা, KMDA এলাকায় ২০০ টাকা প্রতি শতক।

বাণিজ্যিক ও শিল্প জমি: গ্রামীণ এলাকায় ১০ শতক পর্যন্ত ৫০০ টাকা, তার বেশি হলে ১,০০০ টাকা প্রতি শতক। পৌর এলাকায় (KMDA বাদে) ১০ শতক পর্যন্ত ১,৫০০ টাকা, তার বেশি হলে ৩,০০০ টাকা প্রতি শতক। KMDA এলাকায় ১০ শতক পর্যন্ত ৫,০০০ টাকা, তার বেশি হলে ১০,০০০ টাকা প্রতি শতক।

এই ফি GRIPS পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে জমা দেওয়া যায়।
প্রশ্ন. মিউটেশন আবেদন বাতিল হলে ফি কি ফেরত পাওয়া যায়?
না, ফেরত পাওয়া যায় না। মিউটেশনের জন্য একবার সরকারি ফি জমা দিলে, পরে কোনো কারণে আবেদন বাতিল বা রিজেক্ট হয়ে গেলে সেই টাকা ফেরত দেওয়ার নিয়ম নেই। তাই আবেদন করার আগে সমস্ত কাগজপত্র ও তথ্য ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়াই ভালো। আবেদন বাতিল হলে নতুন করে আবেদন করতে হলে আবার ফি জমা দিতে হবে।
প্রশ্ন. চেইন দলিল (Chain Deed) কী? এটি কি বাধ্যতামূলক?
চেইন দলিল হলো একটি জমির মালিকানা এক ব্যক্তি থেকে আরেক ব্যক্তির কাছে ধাপে ধাপে কীভাবে হস্তান্তরিত হয়েছে, তার প্রমাণস্বরূপ পুরনো দলিলগুলোর একটি ধারাবাহিক তালিকা। যদি বিক্রেতার নামে বর্তমান সরকারি রেকর্ড (খতিয়ান) না থাকে, তাহলে জমিটি সত্যিই তার মালিকানাধীন কিনা তা প্রমাণ করার জন্য আগের মালিকদের দলিলপত্র দেখাতে হয়। এক্ষেত্রে চেইন দলিল বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়ায়, কারণ এটি ছাড়া মিউটেশন বা রেজিস্ট্রেশনের সময় জমির মালিকানার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
প্রশ্ন. জমি রেজিস্ট্রির কতদিনের মধ্যে মিউটেশন করা উচিত?
আইনত মিউটেশন করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বেঁধে দেওয়া নেই। তবে রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব মিউটেশনের আবেদন করে ফেলাই ভালো। দেরি করলে সরকারি রেকর্ডে পুরনো মালিকের নাম থেকে যায়, যার ফলে খাজনা পরিশোধ, ব্যাংক লোন বা পরবর্তীতে জমি বিক্রির সময় জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই দলিল হাতে পাওয়ার পরপরই মিউটেশনের আবেদন করে ফেলা সবচেয়ে নিরাপদ।
প্রশ্ন. মোবাইল ফোন থেকে কি মিউটেশনের আবেদন করা যায়?
হ্যাঁ, মোবাইল ফোনের ব্রাউজার দিয়েও মিউটেশনের আবেদন করা যায়। তবে ফর্ম পূরণ করা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের স্ক্যান কপি আপলোড করা এবং অনলাইনে ফি পরিশোধের কাজগুলো কম্পিউটার বা ল্যাপটপে করলে অনেক বেশি সহজ ও ঝামেলামুক্ত হয়। তাই সুযোগ থাকলে কম্পিউটার বা ল্যাপটপ থেকেই আবেদন করা ভালো।
প্রশ্ন. মিউটেশনের পর ROR কীভাবে ডাউনলোড করব?
বাংলারভূমি পোর্টালে সাইন-ইন করে Citizen Service থেকে Service Delivery-তে গিয়ে "Signed ROR/PI/PLM Copy(s)" অপশনে ক্লিক করে Application No এবং ক্যাপচার উত্তর দিয়ে সার্চ করলে Signed ROR কপি ডাউনলোড করা যায়।
প্রশ্ন. শুনানির নোটিশ এলে কি BL&LRO অফিসে যেতে হবে?
হ্যাঁ, শুনানির নোটিশ পেলে নির্ধারিত তারিখে মূল দলিলপত্রসহ BL&LRO অফিসে ক্রেতা, বিক্রেতাকে শরীরে উপস্থিত হওয়া উচিত। এই শুনানিতে সকল পক্ষের পরিচয় এবং জমির মালিকানা সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হয়। কোনো কারণে অনুপস্থিত থাকলে আবেদন সম্পুর্ণ হতে দেরি হতে পারে, এমনকি আবেদনটি বাতিলও হয়ে যেতে পারে। তাই নোটিশ পাওয়ার পর নির্দিষ্ট সময় ও তারিখে অফিসে যাওয়া জরুরি।
প্রশ্ন. উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির মিউটেশন কীভাবে করব?
উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির মিউটেশন করতে হলে আবেদনের সময় Mutation Type হিসেবে "Succession" বেছে নিতে হবে। এক্ষেত্রে জমির মূল মালিকের ডেথ সার্টিফিকেট এবং বৈধ ওয়ারিশ বা Legal Heir সার্টিফিকেট আপলোড করতে হয়, যা প্রমাণ করে আবেদনকারী ওই জমির প্রকৃত উত্তরাধিকারী। একাধিক ওয়ারিশ থাকলে সবার সম্মতি বা প্রয়োজনীয় নথিও যুক্ত করতে হতে পারে, যাতে মিউটেশনের সময় কোনো জটিলতা না হয়।
প্রশ্ন. ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্টের ক্ষেত্রেও কি মিউটেশন প্রয়োজন?
হ্যাঁ, ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্ট কেনার পর মিউটেশন প্রয়োজন। ফ্ল্যাটের সঙ্গে যে জমির অংশ (Undivided Share বা UDS) যুক্ত থাকে, তা সরকারি রেকর্ডে ক্রেতার নামে আপডেট করার জন্যই মিউটেশন করাতে হয়। এটি না করলে সরকারি খতিয়ানে জমির মালিক হিসেবে পুরনো নাম বা ডেভেলপারের নামই থেকে যায়, যা পরবর্তীতে খাজনা পরিশোধ, লোন বা জমি সংক্রান্ত অন্যান্য কাজে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
প্রশ্ন. আবেদন করার সময় খতিয়ান নম্বর ভুল দিলে কী করব?
যদি আবেদনটি এখনও জমা না হয়ে থাকলে, তাহলে সঠিক খতিয়ান নম্বর দিয়ে নতুন করে আবেদন পূরণ করে জমা দেওয়াই সবচেয়ে সহজ সমাধান। কিন্তু আবেদন ইতিমধ্যে সম্পূর্ণ হয়ে জমা হয়ে গেলে অনলাইনে নিজে থেকে তথ্য সংশোধন করার সুযোগ সাধারণত থাকে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট BL&LRO অফিসে সরাসরি যোগাযোগ করে ভুলটি জানাতে হবে, তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বা সংশোধনের পরামর্শ দেবেন।
প্রশ্ন. একই দলিলে একাধিক ক্রেতা থাকলে কীভাবে মিউটেশনের আবেদন করব?
একই রেজিস্টার্ড দলিলে যদি একাধিক ক্রেতার নাম থাকে, তাহলে দলিলে উল্লেখিত প্রত্যেকের মালিকানার অংশ (Share) অনুযায়ী মিউটেশনের আবেদন করতে হয়। আবেদন পূরণ করার আগে দলিলে কার কত শতাংশ বা কতটুকু অংশ রয়েছে তা ভালোভাবে যাচাই করে নিতে হবে, যাতে সরকারি রেকর্ডেও প্রত্যেক ক্রেতার নাম তার সঠিক অংশ অনুযায়ী নথিভুক্ত হয়। ভুল তথ্য দিলে পরবর্তীতে মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হতে পারে।
প্রশ্ন. মিউটেশনের আবেদন কি অফলাইনেও করা যায়?
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে মিউটেশনের আবেদন মূলত অনলাইনেই গ্রহণ করা হয়, banglarbhumi পোর্টালের মাধ্যমে। অফলাইনে সরাসরি আবেদন জমা দেওয়ার ব্যবস্থা এখন প্রায় নেই বললেই চলে। তবে আবেদন করার পর নথি যাচাই বা শুনানির প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট BL&LRO অফিসে সশরীরে উপস্থিত হতে হবে।
প্রশ্ন. দাগের মোট জমির চেয়ে বেশি জমির পরিমাণ দিলে কী সমস্যা হতে পারে?
কোনো দাগ নম্বরে সরকারি রেকর্ডে যতটুকু জমি উল্লেখ আছে, তার চেয়ে বেশি পরিমাণ জমি আবেদনে উল্লেখ করলে যাচাইয়ের সময় তা ধরা পড়ে যায় এবং আবেদনটি আটকে যেতে পারে বা রিজেক্ট হয়ে যেতে পারে। এতে অহেতুক সময় নষ্ট হয় এবং পুনরায় সঠিক তথ্য দিয়ে আবেদন করতে হয়। তাই আবেদন জমা দেওয়ার আগে দলিলে উল্লেখিত জমির পরিমাণ সরকারি খতিয়ান বা রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া উচিত।
প্রশ্ন. অটো-মিউটেশন (Auto-Mutation) কী?
Banglarbhumi পোর্টালের SoP অনুযায়ী এটি একটি Automated Mutation সিস্টেম। রেজিস্ট্রি অফিসে দলিলের রেজিস্ট্রেশন সম্পূর্ণ হলে, সেই দলিল সরাসরি ইলেকট্রনিকভাবে BL&LRO অফিসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, ফলে অনেক ক্ষেত্রে আলাদা করে Mutation Petition জমা দেওয়ার দরকার পড়ে না। এটি তখনি হয়, যদি বিক্রেতা রেকর্ডভুক্ত মালিক (Recorded Owner) হন, তাহলে কোনো Hearing বা Enquiry ছাড়াই ক্রেতার নাম সরাসরি RoR (Record of Rights)-এ Mutate হয়ে যেতে পারে এবং রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরে তা জানানো হয়। তবে বিক্রেতা রেকর্ডভুক্ত মালিক না হলে, বা উত্তরাধিকার, দান কিংবা অন্য কোনো কারণে অতিরিক্ত যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে, আলাদাভাবে Online Mutation আবেদন করতে হতে পারে। তাই আপনার ক্ষেত্রে অটো-মিউটেশন হবে নাকি নিজে আবেদন করতে হবে, তা নির্ভর করে জমির রেকর্ড, দলিল ও সংশ্লিষ্ট মামলার প্রকৃতির ওপর।

শেষ কথা

জমির মিউটেশন বা খারিজ করা তেমন কঠিন কাজ নয়। সরকারি নিয়ম মেনে সঠিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়ে আবেদন করলেই আপনি নিজেই এই কাজ করতে পারবেন।

দালালের সাহায্য না নিয়ে নিজে অনলাইনে আবেদন করলে অতিরিক্ত খরচও বাঁচবে, আর নিজের আবেদনের পুরো প্রক্রিয়াটাও আপনি নিজেই দেখতে পারবেন।

তাই মিউটেশন করার প্রয়োজন হলে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অফিসিয়াল Banglarbhumi পোর্টালে গিয়ে আবেদন করতে পারেন। আবেদনের সময় কোনো সমস্যা হলে বা কিছু বুঝতে অসুবিধা হলে নিচে কমেন্ট করে জানাতে পারেন।

তথ্যসূত্র: এই আর্টিকেলে দেওয়া তথ্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অফিসিয়াল Banglarbhumi পোর্টাল এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে লেখা হয়েছে।

Digital Bhumi
Seikh

জমি-জমা, ভূমি রেকর্ড, সরকারি প্রকল্প ও নাগরিক পরিষেবা নিয়ে তথ্যভিত্তিক কনটেন্ট তৈরি করি। সরকারি ও নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য যাচাই করে সহজ ভাষায় তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য, যাতে সাধারণ মানুষ বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা ও আবেদন প্রক্রিয়া সহজে বুঝতে পারেন।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url