খাস জমি দেখার নিয়ম: নিজের এলাকার খাস জমি অনলাইনে দেখুন নতুন পদ্ধতিতে ২০২৬
![]() |
| বাংলাভূমি পোর্টালে খাস জমি দেখার নিয়ম মেনে প্লট যাচাই করুন; নতুন পদ্ধতিতে! |
জমি কেনার আগে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটা হলো - জমিটি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন না সরকারি খাস জমি। ২০২৬ সালে খাস জমি দেখার নিয়ম অনেক সহজ হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের যেকোনো মৌজার খাস জমির তথ্য আপনি নিজেই বাংলাভূমি পোর্টালে দেখে নিতে পারবেন। কোন প্লটে কতটা জমি সরকারের নামে আছে, সেটাও জানা যাবে।
খাস জমি কী এবং কেন যাচাই করা জরুরি?
খাস জমি মানে সরকারি মালিকানার জমি, আর রেকর্ডে এমন জমির রায়ত হিসেবে লেখা থাকে “পশ্চিমবঙ্গ সরকার পক্ষে কালেক্টর”। তাই না জেনে এমন জমি কিনলে বা সেখানে বাড়ি বানালে পরে বড় আইনি ঝামেলায় পড়ার ঝুঁকি থাকে, আর এজন্যই কেনার আগে খাস জমি দেখার নিয়ম মেনে যাচাই করে নেওয়াটাই সবচেয়ে নিরাপদ।
অনলাইনে খাস জমি দেখার নিয়ম
খাস জমি দেখার নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে গুগলে Banglarbhumi লিখে সার্চ করুন, শুধুমাত্র অফিসিয়াল সাইটের লিংকে ক্লিক করুন। যদি আগে থেকে এই পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন করা থাকলে মোবাইল, পাসওয়ার্ড ও ক্যাপচা দিয়ে “Next” চাপুন এবং মোবাইলে আসা OTP দিয়ে “Submit” করুন, আর রেজিস্ট্রেশন না থাকলে প্রথমে একটি বিনামূল্যে অ্যাকাউন্ট বানিয়ে নিন।
অপশন নির্বাচন করা
লগইন করার পর হোম পেজে থাকা “Know Your Property” অপশনটিতে ক্লিক করতে হবে।
জমির অবস্থানের তথ্য দেওয়া
যে এলাকার খাস জমি দেখতে চান, সেটাই বেছে নিন। প্রথমে জেলা, তারপর ব্লক এবং শেষে মৌজা ও ভাষা সিলেক্ট করুন।
খতিয়ানের তথ্য দেওয়া
এরপর “Normal Khatian” অপশনে টিক দিন, “Search by Khatian” অপশনেও টিক দিন এবং খতিয়ান নম্বরের ঘরে "01" লিখুন।
সব শেষে পাশেই দেখানো ক্যাপচা কোড ক্যাপচার ঘরে হুবহু পূরণ করে “View” বাটনে ক্লিক করুন।
পোর্টালে খাস জমির কী কী তথ্য দেখা যাবে?
| তথ্য | কী দেখা যাবে |
|---|---|
| খতিয়ান নম্বর | 1 (সার্চের সময় 01 দিতে হয়) |
| রায়তের নাম | পশ্চিমবঙ্গ সরকার পক্ষে কালেক্টর |
| রায়তের ধরন | কালেক্টর |
| ঠিকানা | নিজ |
| মোট জমি | মোট কত একর জমি আছে এই মৌজায় |
| দাগের সংখ্যা | এই খতিয়ানে মোট কত গুলো প্লট আছে |
| প্লট অনুযায়ী তথ্য | দাগ নম্বর, জমির শ্রেণি, অংশ এবং অংশের পরিমাণ |
খতিয়ান নম্বর "1" বদলে "01" দিতে হবে কেন?
খাস জমি নিয়ে সতর্কতা: সরকার প্রয়োজনে এই জমি যেকোনো সময় ফেরত নিতে পারে, তাই আপনি, আপনার প্রতিবেশী বা অন্য কেউ এমন জমি দখল করে থাকলে বা বাড়ি বানিয়ে থাকলে ঝুঁকি থেকেই যায়। আর এজন্য জমি কেনার আগে খাস জমি দেখার নিয়ম মেনে অনলাইনে যাচাইয়ের পাশাপাশি স্থানীয় ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর (BL&LRO) থেকেও তথ্য মিলিয়ে নেবেন।
খাস জমি নিয়ে জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন: খাস জমি দেখার নিয়ম কী?
উত্তর: বাংলারভূমি পোর্টালে প্রবেশ করে হোম পেজে 'Know your property' অপশনে ক্লিক করুন। তারপর জেলা, তারপর ব্লক এবং শেষে মৌজা নির্বাচন করুন। এরপর “Normal Khatian” ও “Search by Khatian” অপশনে টিক দিন। খতিয়ান নম্বরের ঘরে ০১ লিখে ক্যাপচা পূরণ করে “View” বাটনে ক্লিক করুন। তাহলেই সংশ্লিষ্ট খতিয়ানের তথ্য দেখতে পাবেন।
প্রশ্ন: পশ্চিমবঙ্গের যেকোনো মৌজার খাস জমি দেখা যায় কি?
উত্তর: হ্যাঁ, বাংলারভূমি পোর্টালে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার ব্লক ও মৌজা নির্বাচন করে খাস জমির তথ্য খোঁজা যায়। তবে নির্দিষ্ট মৌজার তথ্য পোর্টালে উপলব্ধ থাকা এবং সঠিকভাবে অনুসন্ধান করার উপর ফলাফল নির্ভর করে। তাই জমির তথ্য যাচাই করার সময় জেলা, ব্লক ও মৌজার নাম ঠিকভাবে নির্বাচন করুন।
প্রশ্ন: খতিয়ান নম্বরে 1 দিলে “Work is in progress” দেখায় কেন?
উত্তর: খাস জমির তথ্য খোঁজার সময় খতিয়ান নম্বরের ঘরে শুধু 1 লিখলে প্রত্যাশিত ফলাফল নাও আসতে পারে। নতুন পদ্ধতি অনুযায়ী, খতিয়ান নম্বরের ঘরে 02 লিখে অনুসন্ধান করুন। এরপর ক্যাপচা পূরণ করে “View” বাটনে ক্লিক করুন। তবুও “Work is in progress” দেখালে কিছুক্ষণ পরে আবার চেষ্টা করুন।
প্রশ্ন: বাংলারভূমি পোর্টালে খাস জমির কী কী তথ্য পাওয়া যায়?
উত্তর: বাংলারভূমি পোর্টালে সংশ্লিষ্ট খতিয়ানের রায়তের নাম, রায়তের ধরন, ঠিকানা এবং মৌজায় মোট খাস জমির পরিমাণ ও দাগের সংখ্যা সম্পর্কে তথ্য দেখা যায়। এছাড়া প্লট অনুযায়ী প্লট নম্বর, জমির শ্রেণি, জমির অংশ ও জমির পরিমাণও দেখা যায়। এই তথ্য ব্যবহার করে নির্দিষ্ট মৌজার খাস জমি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া সম্ভব।
প্রশ্ন: খাস জমি কেনা বা দখল করা কি নিরাপদ?
উত্তর: সরকারি খাস জমি নিজের ইচ্ছামতো কেনা বা দখল করা নিরাপদ নয়। এই ধরনের জমির উপর ব্যক্তিগত মালিকানা দাবি করার আগে জমির সরকারি রেকর্ড, বন্দোবস্ত বা পাট্টা এবং প্রযোজ্য আইনি শর্ত যাচাই করা জরুরি। জমিটি ১ নম্বর খতিয়ানে রয়েছে কি না, তা দেখার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরে যোগাযোগ করুন। শুধু খতিয়ান দেখে জমির মালিকানা বা কেনাবেচার বৈধতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন না।
শেষ কথা
জমি কেনার আগে বাংলাভূমি পোর্টালে খাস জমি দেখার নিয়ম মেনে প্লট যাচাই করলেই বড় আর্থিক ও আইনি ঝুঁকি এড়ানো যায়। আর মনে রাখবেন, নতুন পদ্ধতিতে খতিয়ান নম্বর লিখতে হবে 01। লেখাটা কাজে লাগলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করুন, যাতে তারাও জমি কেনার আগে নিজেই যাচাই করে নিতে পারেন।
আমি তিন বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গের জমি-জমা ও সরকারি প্রকল্প নিয়ে কাজ করছি। ভূমি পোর্টালের কাজগুলো নিজে দেখি, সরকারি নোটিস মিলিয়ে দেখি, তারপর সহজ ভাষায় লিখি। যাতে সাধারণ মানুষ নিজেই আবেদন করতে পারেন।



